সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত: অর্থ, উচ্চারণ ও ফজিলত (বিস্তারিত)
সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত (২২, ২৩ ও ২৪ নম্বর আয়াত) হলো তাওহীদ, আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ ও মহিমার এক অপূর্ব প্রকাশ। এই আয়াতগুলোতে একসঙ্গে আল্লাহর ১৫টিরও বেশি গুণবাচক নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যা বান্দাকে আল্লাহর পরিচয় ও ক্ষমতার গভীর অনুভূতি দেয়।
সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত (আরবি মূল ও অর্থ)
۞ اَعُوْذُ بِاللهِ السَّمِيْعِ الْـعَلِيْمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ
۞ هُوَ اللّٰهُ الَّذِىۡ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ۚ عٰلِمُ الۡغَيۡبِ وَالشَّهَادَةِ ۚ هُوَ الرَّحۡمٰنُ الرَّحِيۡمُ ﴿۲۲﴾ هُوَ اللّٰهُ الَّذِىۡ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَۚ اَلۡمَلِكُ الۡقُدُّوۡسُ السَّلٰمُ الۡمُؤۡمِنُ الۡمُهَيۡمِنُ الۡعَزِيۡزُ الۡجَـبَّارُ الۡمُتَكَبِّرُؕ سُبۡحٰنَ اللّٰهِ عَمَّا يُشۡرِكُوۡنَ ﴿۲۳﴾ هُوَ اللّٰهُ الۡخَـالِـقُ الۡبَارِئُ الۡمُصَوِّرُ لَـهُ الۡاَسۡمَآءُ الۡحُسۡنٰىؕ يُسَبِّحُ لَهٗ مَا فِى السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِۚ وَهُوَ الۡعَزِيۡزُ الۡحَكِيۡمُ আরো দেখুন
উচ্চারণঃ আউযুবিল্লাহিস সামিইল আলিমি মিনাশ শাইত্বনির রাজিম। তিনবার পড়ে সূরা হাশরের শেষ ৩ আয়াত ১ বার পাঠ করবে। হুওয়াল্লা-হুল্লাযী লা-ইলা-হা ইল্লা-হু, ‘আ-লিমুল গাইবি ওয়াশশাহা-দাতি হুওয়াররাহমা-নুর রাহীম। হুওয়াল্লা-হুল্লাযী লা-ইলা-হা ইল্লা-হু, আলমালিকুল কুদ্দূছুছ ছালা-মুল মু’মিনুল মুহাইমিনুল ‘আযীযুল জাব্বা-রুল মুতাকাব্বির, ছুবহা-নাল্লা-হি ‘আম্মা-ইউশরিকূন। হুওয়াল্লা-হুল খা-লিকুল বা-রিউল মুছাওবিরু লাহুল আছমাউল হুছনা, ইউছাব্বিহু লাহূ মা-ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ওয়া হুওয়াল ‘ আযীযুল হাকীম
অর্থঃ তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই; দৃশ্য-অদৃশ্যের জ্ঞাতা; তিনিই পরম করুণাময়, দয়ালু। তিনিই আল্লাহ; যিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনিই বাদশাহ, মহাপবিত্র, ত্রুটিমুক্ত, নিরাপত্তাদানকারী, রক্ষক, মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রতাপশালী, অতীব মহিমান্বিত, তারা যা শরীক করে তা হতে পবিত্র ও মহান। তিনিই আল্লাহ, স্রষ্টা, উদ্ভাবনকর্তা, আকৃতিদানকারী, তাঁর রয়েছে সুন্দর নামসমূহ আসমান ও যমীনে যা আছে সবই তার মহিমা ঘোষণা করে। তিনি মহাপরাক্রমশারী, প্রজ্ঞাময়।
উৎসঃ সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ২৯২২
কেন এত গুরুত্ব?
আল্লাহর গুণবাচক নামের সমাহার: একসাথে এতগুলো মহান ও সুন্দর নাম কুরআনের খুব কম স্থানেই এভাবে এসেছে।
ঈমান ও আত্মিক প্রশান্তি: এই আয়াতগুলো তিলাওয়াত করলে বা অর্থ অনুধাবন করলে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও ভালোবাসা গভীর হয় এবং মন শান্ত হয়।
বিশেষ ফজিলত: হাদিসে বর্ণিত আছে, সকালে বা সন্ধ্যায় এই আয়াতগুলো পাঠ করলে আল্লাহর ইবাদতে ও বান্দার নিরাপত্তায় বিরাট আধ্যাত্মিক সওয়াব ও ফেরেশতাদের দোয়ার বরকত লাভ হয়। আরো দেখুন