বিদ্যুৎ বিল কমানোর সহজ ও কার্যকর ১০ উপায়
প্রতিদিনের কিছু ছোট অভ্যাস পরিবর্তন করলেই বিদ্যুতের অপচয় অনেকটাই কমানো সম্ভব। বিশেষ করে এসি, ফ্রিজ, ফ্যান, লাইট ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র সঠিকভাবে ব্যবহার করলে মাসিক বিদ্যুৎ খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।
তবে সবার বিদ্যুৎ বিল একই হারে কমবে—এমন নির্দিষ্ট শতাংশ বলা ঠিক নয়। কারণ বিদ্যুৎ খরচ নির্ভর করে বাসার আকার, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি এবং সেগুলো কতক্ষণ চালানো হচ্ছে তার ওপর।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পরামর্শ অনুযায়ী, নিচের বিষয়গুলো মেনে চললে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানো সম্ভব।
১. অপ্রয়োজনীয় লাইট ও ফ্যান বন্ধ রাখুন
যে ঘরে কেউ নেই, সেখানে লাইট ও ফ্যান চালু রাখবেন না। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় লাইট, ফ্যান ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ করার অভ্যাস করুন।
ডেসকোর বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী পরামর্শেও ব্যবহার শেষে বৈদ্যুতিক যন্ত্রের সুইচ বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে।
ডেসকো – বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী পরামর্শ২. দিনের বেলা প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করুন
দিনের বেলায় সম্ভব হলে জানালা ও পর্দা খুলে সূর্যের আলো ব্যবহার করুন। এতে ঘরে কৃত্রিম আলো ব্যবহারের প্রয়োজন কমে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য দিনের বেলা প্রাকৃতিক আলো ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে ডেসকো।
ডেসকো – বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী পরামর্শ৩. LED বাতি ব্যবহার করুন
পুরোনো বা বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী বাতির পরিবর্তে LED বাতি ব্যবহার করা যেতে পারে। LED বাতি তুলনামূলকভাবে কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এবং দীর্ঘস্থায়ীও হয়।
তবে শুধু বাতি বদলালেই হবে না—প্রয়োজন ছাড়া লাইট জ্বালিয়ে রাখাও বন্ধ করতে হবে।
ডেসকো – বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী পরামর্শ৪. এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখুন
গরমের সময় বিদ্যুৎ বিল বাড়ার অন্যতম কারণ এসির অতিরিক্ত ব্যবহার। তাই প্রয়োজনের তুলনায় খুব কম তাপমাত্রায় এসি না চালিয়ে সাধারণভাবে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডেসকোও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
ডেসকো – বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ব্যবহারের পরামর্শপ্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের বরাতে এসির তাপমাত্রা ২৪–২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
প্রথম আলো – বিদ্যুৎ সাশ্রয় এখন জরুরি, এসি ব্যবহারে কীভাবে কমবে বিল?৫. এসির ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার করুন
এসি দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করলে ফিল্টারে ধুলাবালি জমে বাতাস চলাচলে সমস্যা হতে পারে। এতে এসিকে ঘর ঠান্ডা করতে বেশি সময় কাজ করতে হতে পারে।
তাই এসির ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার করুন এবং প্রয়োজন হলে সার্ভিসিং করান।
প্রথম আলো – গরমের সময় এসির বিদ্যুৎ বিল কমানোর ৭টি কৌশল৬. ফ্রিজের দরজা অপ্রয়োজনে খোলা রাখবেন না
ফ্রিজের দরজা দীর্ঘ সময় খোলা রাখলে ভেতরের ঠান্ডা বাতাস বের হয়ে যায়। ফলে নির্ধারিত তাপমাত্রা ধরে রাখতে ফ্রিজকে বেশি কাজ করতে হতে পারে।
তাই প্রয়োজনীয় জিনিস বের করে দ্রুত দরজা বন্ধ করুন এবং অপ্রয়োজনে বারবার ফ্রিজ খুলবেন না।
প্রথম আলো – যেসব যন্ত্রের কারণে বিদ্যুৎ বিল বেশি আসে, যেভাবে কমাবেন খরচ৭. ফ্রিজে গরম খাবার রাখবেন না
গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে রাখলে ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। ডেসকোর বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী পরামর্শেও ফ্রিজে গরম খাবার না রাখার কথা বলা হয়েছে।
ডেসকো – বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী পরামর্শ৮. পুরোনো যন্ত্রের পরিবর্তে বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী যন্ত্র বেছে নিন
নতুন ফ্রিজ, এসি বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র কেনার সময় শুধু দাম দেখবেন না। যন্ত্রটি কতটা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, সেটিও বিবেচনা করুন।
বিশেষ করে ফ্রিজ কেনার সময় এনার্জি সাশ্রয়ের রেটিং বা স্টার চিহ্ন দেখে তুলনা করা যেতে পারে।
প্রথম আলো – ফ্রিজ কিনুন দেখে, শুনে এবং বুঝে৯. চার্জার ও ইলেকট্রনিক যন্ত্র অপ্রয়োজনে সংযুক্ত রাখবেন না
মোবাইল, ল্যাপটপ বা অন্যান্য ডিভাইস চার্জ দেওয়ার পর চার্জার অপ্রয়োজনে বৈদ্যুতিক সংযোগে লাগিয়ে না রাখাই ভালো।
কম্পিউটার, মনিটরসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার শেষে বন্ধ করুন। দীর্ঘ সময় ব্যবহার না করলে প্রয়োজন অনুযায়ী প্লাগ বা পাওয়ার সুইচ বন্ধ করে রাখতে পারেন।
ডেসকোর বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী পরামর্শেও ব্যবহার শেষে চার্জার ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কথা বলা হয়েছে।
ডেসকো – বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী পরামর্শ১০. কাপড় একসঙ্গে ইস্ত্রি করুন
প্রতিদিন অল্প অল্প কাপড় ইস্ত্রি করার পরিবর্তে সম্ভব হলে কাপড় জমিয়ে একসঙ্গে ইস্ত্রি করুন। ইস্ত্রি করার সময় প্রয়োজন ছাড়া যন্ত্রটি চালু রেখে দেবেন না।
ডেসকোর বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী পরামর্শেও কাপড় একসঙ্গে ইস্ত্রি করার কথা বলা হয়েছে।
ডেসকো – বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী পরামর্শবিদ্যুৎ বিল কমাতে আরও কিছু সহজ অভ্যাস
শুধু বড় বৈদ্যুতিক যন্ত্র নয়, ছোট ছোট অভ্যাসও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখে।
- ঘর থেকে বের হওয়ার সময় লাইট ও ফ্যান বন্ধ করুন।
- প্রয়োজন ছাড়া টিভি, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্র চালু রাখবেন না।
- দিনের বেলা যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করুন।
- এসি চালানোর সময় দরজা-জানালা অপ্রয়োজনে খোলা রাখবেন না।
- এসির ফিল্টার পরিষ্কার রাখুন।
- ফ্রিজের দরজা অযথা খোলা রাখবেন না।
- ফ্রিজে গরম খাবার রাখবেন না।
- নতুন যন্ত্র কেনার সময় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী মডেল বেছে নিন।
- ব্যবহার শেষে বৈদ্যুতিক যন্ত্রের সুইচ বন্ধ করুন।
- অতিরিক্ত আলোকসজ্জা এড়িয়ে চলুন।
এ ছাড়া পাওয়ার সেলের সচেতনতামূলক বার্তাতেও অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার পরিহার এবং ব্যবহার শেষে সুইচ বন্ধ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পাওয়ার সেল – বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সচেতনতাশেষ কথা
বিদ্যুৎ বিল কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধ করা এবং বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে এমন যন্ত্রগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করা।
বিশেষ করে গরমের সময়ে এসির তাপমাত্রা উপযুক্ত রাখা, নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার করা, ফ্রিজের সঠিক ব্যবহার, অপ্রয়োজনীয় লাইট-ফ্যান বন্ধ রাখা এবং বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী যন্ত্র ব্যবহার করলে বিদ্যুতের অপচয় কমানো সম্ভব।
মনে রাখতে হবে, বিদ্যুৎ বিল কতটা কমবে তা সবার ক্ষেত্রে এক রকম হবে না। আপনার বাসায় কোন কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সেগুলো কতক্ষণ চলছে—তার ওপরই মূলত বিদ্যুৎ খরচ নির্ভর করে।