User

রাখি বন্ধন কেন পালন করা হয়? জানুন বিস্তারিত

রাখি বন্ধন কেন পালন করা হয়? রাখি বন্ধন বা রক্ষাবন্ধন হলো ভাই-বোনের ভালোবাসা, স্নেহ, সম্মান ও পারস্পরিক বন্ধনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। এই দিনে বোন ভাইয়ের হাতে রাখি বাঁধে এবং তার সুখ, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করে। অন্যদিকে ভাই বোনের পাশে থাকার এবং তাকে ভালোবাসা ও সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এই লেখায় রাখি বন্ধন কেন পালন করা হয়, রাখি বন্ধনের ইতিহাস, রাখি বন্ধনের গুরুত্ব, রাখি বন্ধনের পৌরাণিক কাহিনি এবং রাখি উৎসবের তাৎপর্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। বিস্তারিত জানুন

রাখি বন্ধনের মূল তাৎপর্য

রাখি বন্ধন শুধু ভাইয়ের হাতে একটি সুতো বেঁধে দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভালোবাসা, স্নেহ, বিশ্বাস, মঙ্গলকামনা এবং পারস্পরিক দায়বদ্ধতার অনুভূতি।

এই দিনে বোন বা দিদি ভাই বা দাদার হাতে রাখি বাঁধেন। রাখিটি মূলত তাঁদের সম্পর্কের ভালোবাসা ও মঙ্গলকামনার প্রতীক। প্রচলিত রীতিতে ভাইও বোনের পাশে থাকার এবং প্রয়োজনে তাকে সাহায্য ও সুরক্ষা দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। বর্তমানে অবশ্য এই সম্পর্ককে শুধু ‘ভাই রক্ষা করবে, বোন রক্ষা পাবে’—এভাবে দেখার পরিবর্তে দুজনের পারস্পরিক ভালোবাসা ও পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি হিসেবেই দেখা হয়।

রাখি বাঁধার পর ভাই-বোন একে অপরকে মিষ্টি খাওয়ান এবং ভাই বোনকে উপহার দেন। অনেক পরিবারে এই দিনটি একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া, আড্ডা ও আনন্দের মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপন করা হয়। ফলে উৎসবটি পারিবারিক সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করার একটি সুন্দর উপলক্ষ হয়ে ওঠে। বাংলা ভাষার বিভিন্ন লেখাতেও রাখিকে ভাই-বোনের প্রীতিবন্ধন ও মঙ্গলকামনার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আরো দেখুন

রাখি বন্ধনের সঙ্গে জড়িত পৌরাণিক কাহিনি

রাখি বন্ধনকে ঘিরে বিভিন্ন পৌরাণিক ও লোকপ্রচলিত কাহিনি রয়েছে। এর মধ্যে শ্রীকৃষ্ণ ও দ্রৌপদীর কাহিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত।

জনপ্রিয় কাহিনি অনুযায়ী, একবার শ্রীকৃষ্ণের হাতে আঘাত লেগে রক্ত বের হলে দ্রৌপদী নিজের শাড়ির একটি অংশ ছিঁড়ে তাঁর হাতে বেঁধে দেন। এই ঘটনাকে তাঁদের ভাই-বোনের মতো স্নেহ ও সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। পরবর্তীকালে এই কাহিনি রাখি বন্ধনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে যায়। তবে এটিকে রাখি উৎসবের ঐতিহাসিক উৎপত্তির প্রমাণ হিসেবে না দেখিয়ে প্রচলিত পৌরাণিক কাহিনি হিসেবে উল্লেখ করাই ভালো। আরো জানুন

রবীন্দ্রনাথের রাখিবন্ধন ও বঙ্গভঙ্গ

বাংলার ইতিহাসে রাখিবন্ধনের একটি আলাদা সামাজিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাখিকে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি ও বাঙালির ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।

বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হওয়ার দিন মানুষে মানুষে বিভেদের পরিবর্তে ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে রাখিবন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। রবীন্দ্রনাথসহ অনেকে মানুষের হাতে রাখি পরিয়ে দেন। সেই সময় রাখি আর শুধু ভাই-বোনের সম্পর্কের প্রতীক ছিল না; এটি হয়ে উঠেছিল সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের প্রতীক। ঐতিহাসিক বিবরণে দেখা যায়, জাতি-ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে একে অপরের হাতে রাখি বাঁধার আহ্বান জানানো হয়েছিল। bangla.bdnews24.com/arts

এ কারণে বাংলায় রাখিবন্ধনের ইতিহাস আলোচনা করতে গেলে রবীন্দ্রনাথের ১৯০৫ সালের উদ্যোগটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটি প্রচলিত ভাই-বোনের রাখি উৎসবের ‘শুরু’ ছিল—এমন দাবি করা ঠিক নয়। বরং বলা যায়, রবীন্দ্রনাথ রাখিকে নতুন একটি সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অর্থ দিয়েছিলেন। https://indianexpress

রাখি বন্ধন কেন পালন করা হয়? জানুন বিস্তারিত
No comments yet. Be the first to comment.
Loading...
No more comments